ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার তেল বাণিজ্যের পক্ষে ভারত

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ০৭:১৪:৪০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ০৭:১৪:৪০ অপরাহ্ন
রাশিয়ার তেল বাণিজ্যের পক্ষে ভারত ​ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্য বন্ধ করলেই ইউক্রেন যুদ্ধ থেমে যাবে- এমন যুক্তি মানতে নারাজ ভারত। কিয়েভে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, এই দীর্ঘ সংঘাতের অবসান পণ্যের বাণিজ্য বন্ধ করে নয়, বরং সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন সফরে আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জয়শঙ্কর। এ সময় রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে পশ্চিমা চাপের প্রসঙ্গও উঠে আসে।

জয়শঙ্কর বলেন, কোনো দেশ তেল, অ্যালুমিনিয়াম, খনিজ, ধাতু কিংবা সার কিনছে কি না, তার ওপর যুদ্ধের সমাধান নির্ভর করে না। তার মতে, সংঘাত বন্ধের জন্য আলোচনার পথেই এগোতে হবে।

ভারতের বিপুল জনগোষ্ঠীর জ্বালানি চাহিদার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ১৪০ কোটি মানুষের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, এ বিষয়ে ইউক্রেনের অবস্থান ভারত সম্মান করে। একইভাবে ভারতের অবস্থানকেও অন্যদের সম্মান করা উচিত।

রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের বিষয়ে ভারতের পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হলে জয়শঙ্কর এসব মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান হলো, রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্য থেকে আয় কমাতে পারলে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হবে।

গত মাসে মার্কিন সিনেটে একটি দ্বিদলীয় বিল পাস হয়েছে। এতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। রাশিয়ার অর্থনীতিতে বাণিজ্য থেকে অর্থপ্রবাহ কমানোই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

ভারতের সবচেয়ে বড় রুশ তেল নির্ভরতা

পশ্চিমা চাপের মধ্যেও রাশিয়া ভারতের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে জুন ও জুলাইয়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পর আগস্টে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির পরিমাণ কমেছে।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ তেলের বাজারে বড় পরিবর্তন আসে। তুলনামূলক কম দামের রুশ তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে ভারত।

ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৮ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে রাশিয়া থেকে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ভারত প্রতিদিন প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। জুন ও জুলাইয়ে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৬ লাখ ব্যারেল।

আগস্টে আমদানি কমলেও ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ৪০ শতাংশের বেশি ছিল রাশিয়া থেকে আসা তেল। ফলে পরিমাণ কমার পরও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় মস্কোর গুরুত্ব বড়ই রয়ে গেছে।

ইউরোপের বদলে এশিয়ায় রুশ তেলের বাজার

ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে ভারত ও চীনের মতো এশীয় ক্রেতাদের গুরুত্ব দ্রুত বেড়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর জাহাজ, বিমা ও আর্থিক সেবায় বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও এশিয়ার বাজার রুশ তেলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছে।

ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলোর ধারাবাহিক চাহিদা রাশিয়ার তেল রপ্তানির পরিমাণ ধরে রাখতে সহায়তা করছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপের বাজার সংকুচিত হলেও এশিয়ার ক্রেতাদের মাধ্যমে রাশিয়া তার জ্বালানি রপ্তানির বড় অংশ ধরে রাখতে পারছে।

এই পরিস্থিতিতে রুশ তেল নিয়ে ভারতের অবস্থান শুধু বাণিজ্যিক নয়, ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বৃহত্তর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক হিসাবের সঙ্গেও যুক্ত। পশ্চিমা দেশগুলো যেখানে রাশিয়ার জ্বালানি আয় কমিয়ে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল করতে চাইছে, সেখানে ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনকে সামনে রেখে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার নীতি বজায় রাখছে।

সূত্র: এনডিটিভি

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ